• ঢাকা |

ফ্ল্যাটে ১৫% কর প্রত্যাহারের দাবি রিহ্যাবের, নিবন্ধন ব্যয় ৭ শতাংশে নামানোর দাবি


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

প্রস্তাবিত বাজেটে আবাসন খাতের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো উপেক্ষিত; ফ্ল্যাটের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ এ জমির মালিকদের প্রাপ্ত ফ্ল্যাটের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব এবং নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবি উপেক্ষা করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। সংগঠনটির দাবি, এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আবাসন খাতে বিনিয়োগ কমবে, যৌথ উন্নয়ন প্রকল্প নিরুৎসাহিত হবে এবং শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাটের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে।

রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, আবাসন খাত বর্তমানে ক্রেতা সংকট, উচ্চ নির্মাণ ব্যয়, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা ও নীতিগত অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন কর আরোপ খাতটিকে আরও সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমানে জমির মালিকদের দেওয়া সাইনিং মানির ওপর ১৫ শতাংশ কর দিতে হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে এর পাশাপাশি ডেভেলপারের নির্মিত ফ্ল্যাটের ওপরও জমির মালিককে ১৫ শতাংশ কর দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এতে যৌথ উন্নয়ন (জয়েন্ট ভেঞ্চার) প্রকল্পের আগ্রহ কমে যাবে এবং নতুন প্রকল্প গ্রহণে নিরুৎসাহ সৃষ্টি হবে।

রিহ্যাবের হিসাব অনুযায়ী, ২৪ ইউনিটের একটি প্রকল্পে জমির মালিক ১২টি ফ্ল্যাট পেলে এবং সেগুলোর মূল্য ১২ কোটি টাকা হলে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা কর পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ প্রায় দুটি ফ্ল্যাটের সমপরিমাণ মূল্য কর বাবদ চলে যাবে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাট ক্রেতাদের ওপরই পড়বে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে জমি, ফ্ল্যাট ও ভবন ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কর পরিশোধ সাপেক্ষে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় রিহ্যাব। ড. আলী আফজাল বলেন, অর্থনীতির মূলধারার বাইরে থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থ আবাসনসহ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ পেলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে সহজ, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব কর কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে রিহ্যাব। একই সঙ্গে নির্মাণসামগ্রীর ওপর অতিরিক্ত কর এবং জমির মালিকদের প্রাপ্ত ফ্ল্যাটের ওপর নতুন ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানায় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাজেট ঘোষণার আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবি জানানো হয়েছিল। বর্তমানে ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধনে ১৩ শতাংশের বেশি ব্যয় হওয়ায় সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে দাবি রিহ্যাবের।

সংগঠনটির প্রস্তাব ছিল নিবন্ধন ব্যয় ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা। তাদের মতে, নিবন্ধন ব্যয় কমানো হলে সম্পত্তি লেনদেন বাড়বে, বাজারে স্বচ্ছতা আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

রিহ্যাবের দাবি, দেশের প্রায় ২৬৯টি লিংকেজ শিল্পের সঙ্গে আবাসন খাত জড়িত এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। তাই খাতটিকে অতিরিক্ত করের বোঝা না দিয়ে বিনিয়োগবান্ধব নীতি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সিঙ্গেল ডিজিট সুদে গৃহঋণ, সেকেন্ডারি মার্কেট চালু, নিবন্ধন ব্যয় হ্রাস এবং আবাসনবান্ধব করনীতিসহ রিহ্যাবের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব প্রস্তাবিত বাজেটে স্থান পায়নি।

জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে জমির মালিকদের প্রাপ্ত ফ্ল্যাটের ওপর ১৫ শতাংশ কর প্রত্যাহার, নিবন্ধন ব্যয় ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং আবাসন খাতের জন্য বিনিয়োগবান্ধব নীতি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে রিহ্যাব।